মার্কিন অবরোধ এবং চলমান সংঘাত সত্ত্বেও ইরান আরও কয়েক মাস অনায়াসেই টিকে থাকতে পারবে বলে স্বীকার করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সিআইএ-র গোপন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে ইরানের অর্থনীতি সচল রাখতে তারা বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে। ভাসমান ট্যাংকারে বিপুল পরিমাণ তেল মজুত এবং স্থলপথে তেল বিক্রির মাধ্যমে তারা আগামী ৯০ থেকে ১২০ দিন বড় কোনো অর্থনৈতিক সংকট ছাড়াই পার করতে সক্ষম হবে।
এর আগে ‘দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট’-এর এক প্রতিবেদনেও জানানো হয়েছিল যে, ইরান চীনের কাছে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রায় ১২০ দিনের অপরিশোধিত তেল মহাসাগরগুলোতে জাহাজে করে মজুত রেখেছে। ফলে মার্কিন অবরোধের প্রভাব কাটিয়ে দেশটি তাদের অভ্যন্তরীণ ও সামরিক ব্যয় নির্বাহে সক্ষম হচ্ছে। গোয়েন্দাদের এই তথ্য ইরানের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি শক্তিশালী চিত্র তুলে ধরেছে।
সামরিক সক্ষমতার ক্ষেত্রেও সিআইএ চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধপূর্ববর্তী মজুতের তুলনায় ইরানের হাতে এখনো ৭৫ শতাংশ মোবাইল লঞ্চার এবং ৭০ শতাংশ মিসাইল ও ড্রোন সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে বড় ধরণের হামলা চালিয়েও ইরানের মূল সমরশক্তি তেমন একটা কমানো যায়নি। তারা এখনো দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।
মার্কিন গোয়েন্দাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং তারা যুদ্ধবিরতি করতে বাধ্য হবে। কিন্তু সিআইএ-র এই মূল্যায়ন ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে যে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের কার্যকারিতা আসলে কতটুকু।







