জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার লিভার-সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগে মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়ার পর শুক্রবার (১৫ মে) সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। কারিনার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বাবা ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় কায়সার হামিদ।
পারিবারিক সূত্র জানায়, কারিনা প্রথমে সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে তাঁর শরীরে মারাত্মক সংক্রমণ ধরা পড়ে। একই সঙ্গে হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ জনিত জটিলতায় তাঁর লিভার ফেইলিউর দেখা দেয়। দেশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখার পর গত সোমবার রাতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে চেন্নাইয়ের ভেলোরের খ্রিস্টান মেডিক্যাল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল।
হাসপাতালে চিকিৎসকরা প্রথমে তাঁর ফুসফুসের সংক্রমণ দূর করার চিকিৎসা শুরু করেন এবং পাশাপাশি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট বা প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কারিনাকে লিভার দেওয়ার জন্য তাঁর দুই ভাইও প্রস্তুত ছিলেন। তবে কায়সার হামিদ জানান, ফুসফুসে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের সময় হঠাৎ কারিনার রক্তচাপ অনেক নিচে নেমে যায়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে কারিনা কায়সার নাটক-টেলিফিল্মে অভিনয় এবং চিত্রনাট্য লেখার কাজ নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছিলেন। তাঁর অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিনোদন অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারিনার সহকর্মী, নাট্যনির্মাতা ও ভক্তরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছেন। কায়সার হামিদের পরিবার এই কঠিন সময়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
