সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) নামের একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল। সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে অনুসারীর সংখ্যার দিক থেকে দলটি ভারতের ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টিকেও (বিজেপি) পেছনে ফেলেছে। ইনস্টাগ্রামে বিজেপির ফলোয়ার যেখানে ৮ দশমিক ৮ মিলিয়ন, সেখানে ককরোচ জনতা পার্টির ফলোয়ার সংখ্যা ইতিমধ্যে ১৯ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।
সম্প্রতি আইনি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ধনকুবের ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্ম থেকে সিজেপির অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টটি মুছে দেওয়া হয়, যেখানে তাদের ২ লাখের বেশি ফলোয়ার ছিল। তবে এই ধাক্কার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক্সে নতুন আরেকটি অ্যাকাউন্ট খুলে নিজেদের উপস্থিতির জানান দিয়েছে দলটি।
যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন শহরে এই ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দলটির সূচনা করেন ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপক। তিনি পুনে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক শেষ করে বর্তমানে বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক এই দলটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, তারা মূলত ব্যবস্থার বাইরে পড়ে থাকা অলস ও বেকার মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এবং তাদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করে।
দলটি মূলত মিম, গ্রাফিক্স, অ্যানিমেশন এবং বিভিন্ন ইশতেহারের মাধ্যমে বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার মতো যুবসমাজের নানা সংকট নিয়ে তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট তৈরি করে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ইতিমধ্যে ইন্টারনেটের গণ্ডি পেরিয়ে ভারতের একাধিক রাজ্যে সিজেপির রাজ্য স্তরের শাখা ইউনিটও গড়ে উঠেছে।
এই অদ্ভুত নামকরণের পেছনে রয়েছে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের একটি বিতর্কিত মন্তব্য। সম্প্রতি একটি মামলার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর যৌথ বেঞ্চ কিছু বেকার যুবকের কড়া সমালোচনা করেন। প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন যে, সমাজে কিছু পরজীবী ও তেলাপোকার মতো যুবক রয়েছে যারা কোনো চাকরি বা পেশায় জায়গা না পেয়ে সাংবাদিক, আরটিআই কর্মী কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট সেজে পুরো সিস্টেমকে আক্রমণ করে।
প্রধান বিচারপতির এই মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়, যদিও পরবর্তীতে দাবি করা হয় বক্তব্যটি খণ্ডিত ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে এই মন্তব্যের প্রতিবাদস্বরূপ ও ব্যঙ্গ করে গত ১৬ মে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ প্রতিষ্ঠা করেন অভিজিৎ দীপক, যিনি একসময় আম আদমি পার্টির (এএপি) সোশ্যাল মিডিয়া টিমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেছিলেন।
