গাজীপুরের শ্রীপুরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এক নারীকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে পিটিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন এক আওয়ামী লীগ নেতা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি হামলাকারী ওই আওয়ামী লীগ নেতাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এবং গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশকে আগামী ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম বা সময় বেঁধে দিয়েছেন।
লোমহর্ষক এই হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যে শ্রীপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতাসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহতদের দেখতে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাংবাদিকদের বলেন যে, একজন ভদ্র ও নিরপরাধ নারীকে এভাবে প্রকাশ্যে মারধর করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সমাজে কারও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার নির্দেশ দেন তিনি।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বেড়াইদেরচালা এলাকায়। জানা গেছে, একটি জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুল্লাহ ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এই সময় ওই আওয়ামী লীগ নেতা ও তাঁর লোকজন মিলে এক নারীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।
বর্বর এই হামলায় সমলা খাতুন (৯৫), সাইফুল ইসলাম (৪০), মাসুদা আক্তার (৪২) ও বিথী আক্তার (২৫) নামের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাঁদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। মামলার বাদী তাইজুল ইসলাম অভিযোগ করে জানান, আদালতে বিচারাধীন একটি জমি নিয়ে তাঁদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। কিন্তু আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করে এবং এর জেরে বাড়িতে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের মারধর, লুটপাটসহ এক নারীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মারধর, মালামাল লুটপাট ও প্রকাশ্য হত্যাচেষ্টার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতাসহ মামলার সকল আসামি পলাতক রয়েছে। তবে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।







