ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপ ও তীব্র জনবল সংকটের কারণে ইসরাইলি সেনাবাহিনী গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী ‘ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার দ্বারপ্রান্তে’ রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রাতে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে জামির মন্ত্রীদের সামনে সেনাবাহিনীর সংকট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আইডিএফের (ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) জন্য জরুরি ভিত্তিতে নতুন সেনা নিয়োগ আইন, রিজার্ভ ডিউটি আইন এবং বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর আইন প্রয়োজন। অন্যথায় খুব শিগগিরই সেনাবাহিনী তার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হতে পারে এবং রিজার্ভ বাহিনীর বর্তমান কাঠামোও টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
বৈঠকে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের সামনে ১০টি লাল সতর্কসংকেত তুলে ধরছি। প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ না নিলে আইডিএফের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
এ ধরনের উদ্বেগ এর আগেও প্রকাশ করেছিলেন এয়াল জামির। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি সতর্ক করেছিলেন যে, সৈন্যসংকট দ্রুত সেনাবাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি ও কার্যক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী একাধিকবার আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে যে, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ ও অন্যান্য সামরিক দায়িত্ব পালনের কারণে তাদের প্রায় ১২ হাজার সৈন্যের ঘাটতি রয়েছে।
এদিকে, অতি-রক্ষণশীল হারেদি ইহুদিদের সামরিক সেবায় অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিতর্কও সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। ২০২৪ সালের জুনে ইসরাইলের সর্বোচ্চ আদালত রায় দেয় যে, হারেদি ইয়েশিভা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের সামরিক সেবা অব্যাহতির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। এরপর থেকে হারেদি রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সম্প্রদায়ের সদস্যদের বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দিতে নতুন আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় ৮০ হাজার হারেদি পুরুষ সামরিক সেবার জন্য উপযুক্ত হলেও তাদের অধিকাংশই এখনো সেনাবাহিনীতে যোগ দেননি। বিশ্লেষকদের মতে, এই জনবলকে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে সেনাবাহিনীর বিদ্যমান সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হতে পারে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল







