চাঁদপুরের মতলব উত্তরে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে স্থানীয় এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ধর্ষণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তার অভিযোগে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর আপন বড় বোনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার মতলব উত্তর থানা পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মতলব উত্তর উপজেলার পশ্চিম হানিরপাড়ের মো. কাইয়ুম মাল (৩৬) এবং একই গ্রামের মোসা. তানিয়া আক্তার (২৮)। এদের মধ্যে অভিযুক্ত কাইয়ুম কলাকান্দা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর কাইয়ুম, অপর অভিযুক্ত নারী তানিয়ার সহযোগিতায় ওই শিক্ষার্থীকে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, সম্প্রতি পারিবারিকভাবে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়。 বিয়ের পর সে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসা প্রতিবেদনে জানা যায় যে, ওই শিক্ষার্থী ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। পরে পরিবারের দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের পুরো বিষয়টি প্রকাশ পায়।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, এটি শুধু একটি ধর্ষণের ঘটনাই নয়, বরং আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের একটি নির্মম উদাহরণ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক ও জঘন্য বিষয় হলো, আপন বড় বোনই তার নিজের ছোট বোনের ওপর এমন অপরাধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।







