চার দশকের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারিয়ে এক নতুন অধ্যায় লিখল টাইগাররা। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে দারুণ এক জয় তুলে নিয়ে এই ঐতিহাসিক কীর্তি গড়ল মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মিরপুরে বৃষ্টি-বিঘ্নিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান সংগ্রহ করে অস্ট্রেলিয়া। তবে ডিএলএস (ডকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন) মেথডে ওভার কমে ৪১ ওভারে স্বাগতিক বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৯২ রান। জবাবে ব্যাটারদের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৩৬ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে নোঙর করে টাইগাররা৷ এই জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ২-০ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করল বাংলাদেশ৷
১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকারের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম ওভারেই শূন্য রানে তানজিদকে ফিরিয়ে স্বাগতিক শিবিরে আঘাত হানেন জাভিয়ের বার্টলেট। তবে শুরুর ধাক্কা সামলে দলকে এগিয়ে নেন সৌম্য সরকার ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত। দুজনেই সমান ৪২ রান করে আউট হলে ব্যক্তিগত ফিফটির মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি কারও।
এরপর লিটন দাস ২১ এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ১৫ রান করে বিদায় নিলে বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়ে। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে ঠান্ডা মাথায় দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন তাওহীদ হৃদয়। শেষ পর্যন্ত হৃদয় ও অধিনায়ক মিরাজের ব্যাটে ভর করে ৬ ওভার ও ৫ উইকেট বাকি থাকতেই ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে রিলে মেরেডিথ, জাভিয়ের বার্টলেট, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যাডাম জাম্পা ও ম্যাট রেনশ একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে, টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের শুরুতেই তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের তোপে পড়ে একের পর এক ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। দলীয় কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই ম্যাথু শর্ট, কুপার কনোলি ও ম্যাট রেনশকে হারিয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় অজিদের টপ অর্ডার। এরপর দলীয় সপ্তম ওভারে উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স কেরিও ১৩ রান করে মোস্তাফিজের শিকার হন।
পঞ্চম উইকেটে জস ইংলিস (৩৪) ও ক্যামেরন গ্রিন (২৫) মিলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও স্পিনার তানভীর আহমেদ জোড়া আঘাত হেনে দুজনকে বিদায় করেন। এরপর ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে টেনে তোলেন জাভিয়ের বার্টলেট ও মার্নাস লাবুশেন। দুজনের লড়াকু ফিফটিতে শতক ছাড়ানো জুটি গড়ে একপর্যায়ে বিপর্যয় সামাল দেয় অস্ট্রেলিয়া।
তবে ব্যক্তিগত ৫২ রানে বার্টলেটকে বোল্ড করে এই বিপজ্জনক জুটি ভাঙেন তাসকিন আহমেদ। পরের বলেই অ্যাডাম জাম্পাকেও বোল্ড করেন তিনি। এরপরই শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি, যার ফলে নির্ধারিত সময়ের আগেই ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানে থামে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান তিনটি করে এবং তানভীর ইসলাম দুটি উইকেট শিকার করেন।







