গাজীপুরে চাঁদা দাবির হুমকি দিয়ে ফোনালাপ ভাইরাল হওয়া ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি রাতুল শিকদার অমিকে সংগঠন থেকে সরাসরি বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ৪১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. কাউছার আহমেদকেও দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া চাঁদা দাবির ওই ফোনালাপে রাতুল শিকদার অমিকে বলতে শোনা যায়, “এখানে স্বয়ং তারেক রহমান আইলেও কাম হইব না। … এখানে প্রাইম মিনিস্টার আইলেও কাজ হইব না। আমি ফাপরে ডরাই না।” এই অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
গাজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান সাংগঠনিক ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও চাঁদাবাজির অভিযোগে রাতুল শিকদার অমিকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
অডিওতে আরও শোনা যায়, এক ব্যক্তির কাছে বারবার অর্থ দাবি করে রাতুল শিকদার বলছেন, “আপনি আমাকে একদিন দিয়েছেন ১ হাজার টাকা, আরেকদিন দিয়েছেন ৫০০ টাকা। আজকে ভাই ২-৩ হাজার টাকা দিয়েন। অফিসের কিন্তু কিছুই বার করতে পারবেন না।”
এদিকে এই চাঁদাবাজির ঘটনায় বাংলাদেশ পোশাক শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দায়েরকৃত ওই অভিযোগপত্রে রাতুল শিকদার অমিসহ মোট ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে মাজহারুল ইসলাম দাবি করেন, সাতাইশ এলাকায় শ্রমিক সংগঠনের কার্যালয়কে কেন্দ্র করে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা দাবি করে আসছিল। কার্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরও তারা অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যায়। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে ৬৫ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন তিনি。
তবে পুরো ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত রাতুল শিকদারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেছেন, “অভিযোগটি আমরা গ্রহণ করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”







