রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মস্কোয় সবচেয়ে বড় ও ভয়াবহ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো এ হামলায় মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল গ্যাজপ্রম নেফটের একটি প্রধান তেল শোধনাগার। হামলার পর পুরো এলাকায় ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
রাশিয়া দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ২০০ ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তবে বেশ কয়েকটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, ভোর থেকেই হামলা প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা বাহিনী কাজ শুরু করে। তারপরও গুরুত্বপূর্ণ শোধনাগারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সেখানে ভয়াবহ আগুন লাগে।
এর আগে গত মঙ্গলবারও একই স্থাপনায় হামলা হয়েছিল। সেই হামলার কারণে উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। নতুন হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের দিকে বিমান বিধ্বংসী গোলার শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। পরে এলাকায় ধোঁয়া ও ছাই মিশ্রিত কালো বৃষ্টির মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতির কারণে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। তবে আগাম সতর্কবার্তা না পাওয়ায় অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
হামলার প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচলেও। মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয় এবং যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
রুশ বিমান সংস্থা অ্যারোফ্লট ও রোসিয়া ১৭০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। একই সঙ্গে কাজান শহরেও বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন, ইউক্রেনকে এ হামলার জন্য ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে। তিনি আরও বড় ধরনের পাল্টা সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলাকে রাশিয়ার আগ্রাসনের ‘ন্যায়সঙ্গত প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে রাশিয়াকে আলোচনার টেবিলে আনাই ইউক্রেনের লক্ষ্য।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর ধারাবাহিক হামলার কারণে দেশটির জ্বালানি খাতে চাপ আরও বাড়তে পারে।







