উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা আরও দ্রুত সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। এমন বাস্তবতায় দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধি এবং পারমাণবিক সক্ষমতা জোরদার করার বিকল্প নেই। তাই কোনো ধরনের বিরতি ছাড়াই সামরিক সম্পদ উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
সম্প্রতি এক বৈঠকে কিম জং উন জোর দিয়ে বলেন, উত্তর কোরিয়াকে একটি শক্তিশালী পারমাণবিক রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হবে। তিনি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিদ্যমান উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে দেশটির নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে আত্মরক্ষার স্বার্থে আরও শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
কিম জং উন বলেন, দেশের সামরিক বাহিনীর যুদ্ধ প্রস্তুতি, অস্ত্রভাণ্ডার এবং কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক অস্ত্র এবং অন্যান্য আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতাই উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রধান নিশ্চয়তা।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাত প্রসঙ্গে কিম জং উন যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিই মূলত দায়ী। ওয়াশিংটনের আধিপত্যবাদী ও হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উনের এ বক্তব্য উত্তর কোরিয়ার সামরিক ও পারমাণবিক কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের ইঙ্গিত বহন করছে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে দেশটির বিদ্যমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
