ঢাকার কেরানীগঞ্জের রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ড ও বাজার এলাকায় ফুটপাতের ভাসমান দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যুবদল ও ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মাসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, দোকানের ধরন অনুযায়ী দৈনিক ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং মাসিক ভিত্তিতে ৩ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ীদের ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখানো, মারধর এবং দোকান বন্ধ করে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে।
এই চাঁদাবাজির চক্রে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম মোল্লা, দক্ষিণ থানা ছাত্রদলের সদস্য নীরব, তেঘরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবির মোল্লা পায়েলসহ ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি পাভেল মোল্লার বেশ কয়েকজন অনুসারীর নাম উঠে এসেছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ‘অতিথি ভোজন অ্যান্ড বিরিয়ানি রেস্টুরেন্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি মাসে জোরপূর্বক ১০ হাজার টাকা চাঁদা নিচ্ছেন ছাত্রদল নেতা আবির মোল্লা পায়েল। এছাড়া, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এক হোটেল ব্যবসায়ীকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে দোকান থেকে বিতাড়িত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা পাভেল মোল্লার বিরুদ্ধে, যেখানে পরবর্তীতে তার অনুসারী ডিকে বাপ্পিকে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয়।
এর বাইরে রাজেন্দ্রপুরের একটি বেকারি থেকে ছাত্রদলকর্মী সিয়াম প্রতি মাসে চার হাজার টাকা, পুরির হোটেল থেকে জসিম নামে এক নেতা পাঁচ হাজার টাকা এবং বাখরখানির দোকান থেকে যুবদল নেতা সেলিম মোল্লা নিয়মিত মাসিক চাঁদা নিচ্ছেন বলে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। ভাঙারি দোকান থেকে পাভেল মোল্লার বড় ভাই সুমন মোল্লার বিরুদ্ধেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই নিয়মিত অর্থ আদায়ের ফলে রাজেন্দ্রপুর বাসস্ট্যান্ডের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে মুখ বুজে চাঁদা দিলেও ভীতি ও লোকসানের মুখে কেউ কেউ দোকান বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাও এই চাঁদাবাজির সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাঁরা প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ করতে পারছেন না। স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম মোল্লা চাঁদাবাজির বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন। অন্যদিকে, তেঘরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবির মোল্লা পায়েল বাজারটি তাঁর নির্দেশনায় পরিচালিত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও, কারও কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া বা কাউকে মারধর করার অভিযোগটি নাকচ করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।







