অতীতে যারা শিক্ষা বোর্ডে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে দলীয় সুবিধা ভোগ করেছে, তারাই এখন খোলস বদলে বিএনপি সাজছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে, তাই দেশের আপামর জনগণের প্রতি এই সরকারের তীব্র দায়বদ্ধতা রয়েছে। রোববার (২৮ জুন) সকালে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষ্যে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসন্ন উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এবারের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিন্দুমাত্র কোনো সুযোগ নেই। কেউ যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোথাও প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে গুজব ছড়ায়, তবে নতুন প্রণীত কঠোর আইনের আওতায় তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নকল প্রতিরোধের বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে হেলিকপ্টার বা ঝটিকা অভিযান চালিয়ে যা সম্ভব হয়নি, এবার আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থার কারণে সেই নকল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। সিসিক্যামেরার মাধ্যমে দেশের প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্র এখন ডিজিটালি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যমান শিক্ষক সংকট নিয়ে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, এই সংকট গত তিন মাসে তৈরি হয়নি, এটি বিগত স্বৈরাচারী সরকারের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা। ইতোমধ্যে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত ঝুলে থাকা মামলার শুনানি শুরু হয়েছে এবং আগামী ২ জুলাই এ বিষয়ে আদালত থেকে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আদালতের রায় পেলেই আগামী জুলাই মাসের পর থেকে বড় পরিসরে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ সময় তিনি কঠোরভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ডিজি (শিক্ষা অধিদপ্তর) অফিসে বসে দালালি করার দিন এখন আর নেই। শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিগত সরকারের সময়ে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়ম হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টিভিইটি (টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং) কোর্স যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড যদি সমন্বিতভাবে অভিন্ন প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারে, তাহলে মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডও আগামীতে সাধারণ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে অভিন্ন প্রশ্নপত্র প্রণয়নে যুক্ত হবে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত শিক্ষা সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সম্পূর্ণ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ, প্রশ্ন ফাঁস ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে মন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন কৌশলগত দিকনির্দেশনা ও মতামত তুলে ধরেন।







