চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বিয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় এক নববধূ সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা জানাজানির পর এলাকাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে শনিবার (২৭ জুন) রাতে উপজেলার উয়ারুক এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত প্রাক্তন প্রেমিক নিহাদ ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শাহরাস্তি উপজেলার বাসিন্দা ওই তরুণীর দুই মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর তাঁর শারীরিক পরিবর্তন দেখে পরিবারের সদস্যদের মনে সন্দেহ জাগে। বিষয়টি নিশ্চিত হতে তাঁরা তরুণীকে উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করান। পরীক্ষার প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা জানান, ওই নববধূ ৭ মাস ১৯ দিনের অন্তঃসত্ত্বা।
পরবর্তীতে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে ভুক্তভোগী তরুণী জানান, বিয়ের আগে পার্শ্ববর্তী উয়ারুক গ্রামের লুতু মিয়ার ছেলে নিহাদ ইসলামের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সম্পর্কের একপর্যায়ে নিহাদ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এরপর তিনি বিয়ের জন্য চাপ দিলে নিহাদ ইসলাম তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে নিহাদ ও তার প্রভাবশালী পরিবারের সদস্যরা ভুক্তভোগী এবং তাঁর পরিবারের ওপর চড়াও হয়। তারা তরুণীর পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক একটি খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। প্রভাবশালীদের হুমকির মুখে প্রাণভয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার প্রথমদিকে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিতে সাহস পায়নি।
তবে বিষয়টি শাহরাস্তি থানা পুলিশের নজরে আসলে পুলিশ প্রশাসন ভুক্তভোগী পরিবারটিকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দেয়। আইনি সুরক্ষার নিশ্চয়তা পেয়ে গতকাল তরুণীর মা বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় নিহাদ ইসলামকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তাঁর মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে এবং ক্রমাগত হুমকির কারণে ভয়ে সে এতদিন বিষয়টি কাউকে জানাতে পারেনি।
শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মামলার প্রধান আসামি নিহাদ ইসলামকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে হুমকি দেওয়া এবং এই অপরাধের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারেও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
