সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ ও গুরুতর অসদাচরণের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব এস. এম. শাহরিয়ারকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দলের সমস্ত স্তরের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে তাঁকে সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানীর একটি হোটেলে প্রায় ১২ লাখ টাকার বিল বকেয়া রাখা এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠার পর দল থেকে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলো।
গত শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে এনসিপির দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়, যা পরবর্তীতে দলের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও প্রকাশ করা হয়েছে।
শোকজ নোটিশে এস. এম. শাহরিয়ারকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, ‘আপনার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ ও গুরুতর অসদাচরণ সংক্রান্ত সংযুক্ত অভিযোগসমূহ অত্যন্ত গুরুতর এবং দলীয় শৃঙ্খলা, ভাবমূর্তি ও আদর্শের পরিপন্থী। এমতাবস্থায়, উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন আপনার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা এই নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ হতে আগামী ০২ (দুই) কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান বরাবর প্রেরণের জন্য আপনাকে নির্দেশ প্রদান করা হলো।’
নোটিশে আরও স্পষ্ট করা হয় যে, দলীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত শাহরিয়ার কোনো ধরনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে পারবেন না।
সম্প্রতি এস. এম. শাহরিয়ারসহ এনসিপির কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে রাজধানীর একটি নামী হোটেলের প্রায় ১২ লাখ টাকা ভাড়া পরিশোধ না করার একটি গুরুতর অভিযোগ গণমাধ্যমে আসে। অভিযোগ রয়েছে, তারা ওই হোটেলের দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে দীর্ঘ প্রায় আট মাস ধরে অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে বিভিন্ন ধরনের ‘অশ্লীল ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড’ পরিচালনা করে আসছিলেন। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কেন্দ্রীয় কমিটি তার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করল।
