ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে দালালির অভিযোগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত ওই নেতাকে ছাড়িয়ে নিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করে তদবির করার একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে।
গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা ভূমি অফিসে এই বিশেষ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন আলফাডাঙ্গার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্র জানায়, আলফাডাঙ্গা পৌরসভার কুসুমদী গ্রামের বাসিন্দা মিলন দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সামনে একটি কম্পিউটারের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন। তবে সেই দোকানের আড়ালে তিনি জমির নামজারি ও খাজনা পরিশোধসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতেন। দালালি ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়ার জন্য এর আগে একাধিকবার তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করা হলেও তিনি তা মানেননি।
অভিযানকালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে মিলন নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। এ সময় তার প্রতিষ্ঠানে সেবার কোনো সরকারি মূল্যতালিকা প্রদর্শন না থাকায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৯ ধারায় তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। একই সাথে অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আদালতের বিচারিক কার্যক্রম চলাকালেই উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ফোন করেন এবং দণ্ডপ্রাপ্ত মিলনকে জেল না দিয়ে কেবল সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। ফোনে তিনি মিলনকে তাঁদের দলের ‘সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব’ হিসেবে পরিচয় দেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইনি বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে এনসিপি নেতা ‘এমপি স্যারকে’ বলার হুমকি দেন বলেও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ কে এম রায়হানুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির দালালির একাধিক ভিডিও ফুটেজ প্রশাসনের কাছে রয়েছে এবং তিনি নিজেও অপরাধ স্বীকার করেছেন। তাই আইন অনুযায়ী তাকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সুপারিশ বা তদবিরের সুযোগ নেই।
তবে তদবিরের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুল জলিল দাবি করেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় আছেন এবং মিলন নামে কোনো ব্যক্তি তার কমিটির সদস্য কি না, সেটিও তার জানা নেই। পরবর্তীতে এই বিষয়ে কথা বলার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি আর সাড়া দেননি।
বিষয়টি নিয়ে ফরিদপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান অপু ঠাকুর বলেন, কোনো ধরনের অপরাধী বা দালালের পক্ষে সুপারিশ করা এনসিপির সাংগঠনিক নীতিমালার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। দলের কোনো পদধারী নেতা যদি এমন তদবির বা সুপারিশ করে থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো বিষয়টি জেলা কমিটির পক্ষ থেকে খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।
