বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় বিএনপির সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় গুরুতর আহত দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতের যুব বিভাগের সহ-সভাপতি সম্রাট আকন্দ বাপ্পী (৩৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ৯ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে গতকাল রাত ১২টা ৩০ মিনিটে (শনিবার) তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নিহত বাপ্পী দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়নের ভেলুরচক গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন দুপুরে পৈতৃক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাপ্পীর পরিবারের সাথে তাঁর আপন চাচা ও স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুল করিমের বাগবিতণ্ডা হয়। এর একপর্যায়ে আব্দুল করিমের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন বিএনপির সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সম্রাট বাপ্পী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায়। হামলায় বাপ্পী, তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম এবং মা জোসনা বেগম গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।
আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে দুপচাঁচিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বাপ্পী ও তাঁর বাবা-মায়ের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে জামায়াত নেতা বাপ্পীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শনিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় নিহতের মা জোসনা বেগম গত ২৮ জুন বাদী হয়ে মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুল করিমসহ ১১ জন এজাহারনামীয় এবং আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দুপচাঁচিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর গত ১ জুলাই (বুধবার) দিবাগত রাতে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর গ্রাম থেকে প্রধান অভিযুক্ত আব্দুল করিম ও তাঁর স্ত্রী মিথিলা আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তাজমিলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চিকিৎসাধীন অবস্থায় জামায়াত নেতা সম্রাটের মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাপ্পীর মৃত্যুর পর পূর্বের মামলাটি এখন একটি নিয়মিত হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। বিএনপির সন্ত্রাসী হামলা ও এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে।







