ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পাঁচ মাস পর এবার সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও দল গোছানোর কাজে মনোযোগ দিচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মেয়াদোত্তীর্ণ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নতুন কমিটি গঠন, কাউন্সিলের মাধ্যমে তৃণমূলের নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সাংগঠনিক স্থবিরতা কাটিয়ে দলকে চাঙ্গা করতে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছেন তিনি।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন এবং আগামী বছরের শুরুতে দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল (জাতীয় কাউন্সিল) আয়োজনের লক্ষ্য সামনে রেখেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর অংশ হিসেবে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঢাকা জেলা বিএনপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক তিনটি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গুলশান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তারেক রহমান শুরুতেই ঢাকা জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায়ের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল অংশ নেন। এরপর তিনি স্বেচ্ছাসেবক দলের শীর্ষ ৩ নেতার (সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসিন আলী ও সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান) সঙ্গে বসেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংগঠনের বর্তমান অবস্থা জানতে চান এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দ্রুত নতুন কমিটি দেওয়ার ইঙ্গিত দেন।
বৈঠকে অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বেচ্ছাসেবক দলের এক শীর্ষ নেতা জানান, ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত এই তিন বছর মেয়াদি কমিটির মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এছাড়া বর্তমানে সংগঠনের সভাপতি এস এম জিলানী সংসদ সদস্য এবং সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে রয়েছেন। ফলে নতুন কমিটি হওয়াটাই স্বাভাবিক। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ৫ আগস্টের আগেই স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, নতুন কমিটি গঠন যেন কোনো ধরনের বিতর্কের জন্ম না দেয়।
শনিবারের ধারাবাহিক বৈঠকের সবশেষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু ও সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টা আলোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি সংগঠনের বর্তমান অবস্থা, নেতাকর্মীদের সক্রিয়তা এবং থানা-ওয়ার্ড কমিটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন। মজনু জানান, প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি কর্মীর খোঁজ নিয়েছেন এবং আগামী ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোকে দ্রুত গতিশীল করার নির্দেশ দিয়েছেন।
দলীয় নীতিনির্ধারকদের মতে, সরকার পরিচালনার ব্যস্ততার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কর্মকাণ্ড কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছিল এবং নেতাকর্মীরাও নিজ-নিজ ব্যবসা-বাণিজ্যে বেশি মনোযোগী হয়ে উঠেছিলেন। এই স্থবিরতা দূর করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখন থেকে নিয়মিত দলের জন্য সময় দেবেন বলে নেতাদের জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে পকেট কমিটি গঠন না করে, আগামীতে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের সব পর্যায়ে গণতান্ত্রিক ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ ১০ বছর পর দলের জেলা, মহানগর ও অঙ্গ-সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন প্রক্রিয়া শেষ হলে আগামী বছরের (২০২৭) শুরুর দিকেই বিএনপির বহুল প্রতীক্ষিত জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, “জাতীয় কাউন্সিল নিয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দল পুনর্গঠন একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং যা কিছু হবে তা কাউন্সিলের মাধ্যমেই করা হবে।”







