তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি পঞ্চম প্রজন্মের ‘কান’ (KAAN) যুদ্ধবিমানের বিভিন্ন প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ যৌথভাবে উৎপাদনের লক্ষ্যে একটি বড় ধরনের প্রতিরক্ষা চুক্তির দিকে এগোচ্ছে পাকিস্তান ও তুরস্ক। দুই দেশের এই সমঝোতা ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ তাদের দ্বিপক্ষীয় সামরিক অংশীদারত্বকে আরও গভীর করবে। একই সঙ্গে তা দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে উভয় দেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
প্রস্তাবিত এই প্রতিরক্ষা উদ্যোগের আওতায় যুদ্ধবিমানটির পাকিস্তান সংস্করণের জন্য ‘কান-পিকে’ (KAAN-PK) নাম নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশেষ সংস্করণের জন্য অত্যন্ত আধুনিক ‘অ্যাভিওনিক্স’ বা বিমানচালনা সংক্রান্ত ইলেকট্রনিক্স এবং উন্নত রাডার ব্যবস্থা দুই দেশের বিজ্ঞানীরা যৌথভাবে তৈরি করবেন। কৌশলগত এই সহযোগিতার মূল চুক্তিটি ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ চূড়ান্ত হবে বলে দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
উভয় দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যাপক আগ্রহ ও নিয়মিত বৈঠকের কারণে এই যৌথ প্রকল্পের গতি আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও স্বনির্ভর, শক্তিশালী ও আধুনিক করার ক্ষেত্রে ‘কান’ যুদ্ধবিমান প্রকল্পটি একটি যুগান্তকারী ও কৌশলগত মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই যৌথ উৎপাদন পরিকল্পনায় বিমান প্রযুক্তির একদম শেষ স্তরের অত্যাধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্টিলথ প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো হবে। এই সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিমান চালনা ও সামরিক বিমান তৈরিতে তুরস্কের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির টেকসই উন্নয়নে দুই দেশই এখন একে অপরের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর লক্ষ্য নিয়ে যৌথভাবে কাজ করছে।







