চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয় মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১০ জুলাই) উপজেলার বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সভায় বক্তব্য রাখেন তিনি।
সভায় উপস্থিত বাঁশখালীবাসীর উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমি সাধারণ গেঞ্জি পরে আপনাদের সামনে এসেছি। এর মানে হচ্ছে, আমি এই এলাকার কোনো মেহমান নই। আজ থেকে আমিও বাঁশখালীর একজন মানুষ। আপনারা আমাকে আপনাদের নাগরিকত্ব দিতে রাজি আছেন?” এ সময় উপস্থিত বিপুল জনতা হাত তালি দিয়ে হ্যাঁ-সূচক সম্মতি জানালে তিনি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এবারের বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি বাঁশখালী তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “এবারের বন্যায় ২৩ জন মানুষ মারা গেছেন। আমরা প্রতিটি পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা করব এবং আগামী তিন দিনের মধ্যেই তা দুর্গতদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হবে।”
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির বন্যাদুর্গত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা বিতরণ করেন। শুধু আনুষ্ঠানিক ত্রাণ বিতরণেই সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি কোমরসমান পানি মাড়িয়ে দুর্গত এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িতে যান। সেখানে অবস্থানরত প্রবীণ, নারী ও শিশুদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন।
পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দুর্যোগের সময় মানুষের পরিচয় একটাই—সে একজন বিপন্ন মানুষ। ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয় এখানে কোনো বিবেচ্য বিষয় নয়। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে পুনর্বাসনে সহায়তা করা আমাদের মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ব।”
পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণকালে জামায়াত আমিরের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, বাঁশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ডাকসুর জিএস ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।







