চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে শত বছরের পুরোনো চলাচলের রাস্তায় কাঁটাতারের বেঁড়া দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ১৭টি পরিবারের দুই শতাধিক নারী, পুরুষ ও স্কুল শিক্ষার্থী দীর্ঘ তিন মাস ধরে একপ্রকার গৃহবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উপজেলার সূচীপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের নরিংপুর নতুন মৃধা বাড়িতে এই অমানবিক ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়ির বিতর্কিত ভূমির ওপর দিয়ে ১৭টি পরিবারের সদস্যরা যুগ যুগ ধরে স্বাধীনভাবে চলাচল করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি পুরান মৃধা বাড়ির আবুল খায়েরের কন্যা মুকসুদা বেগম ওই সম্পত্তি নিজের কেনা দাবি করে চলাচলের পথে বাঁধ সাধেন। এর আগেও একবার প্রশাসন দিয়ে এই কাঁটাতারের বেঁড়া সরিয়ে দেওয়া হলেও, তিন মাস আগে স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় পুনরায় পথটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়িতে থাকা প্যারালাইজড ও কিডনি অপারেশনের রোগীরা নিয়মিত চিকিৎসার জন্য বাইরে যেতে পারছেন না। এমনকি চিকিৎসকেরা একদিন এসে পথের এই করুণ দশা দেখে দ্বিতীয়বার আর বাড়িতে আসতে রাজি হচ্ছেন না। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ও চিকিৎসার জন্য ভুক্তভোগীরা এখন সমাজের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা। কাদার এই মৌসুমে গরুর গোয়ালঘর ও টয়লেটের পাশ দিয়ে দুর্গন্ধের মধ্যে জামাকাপড় নষ্ট করে তাদের স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আবারও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটি নিছক ষড়যন্ত্র। তিনি কেবল মেম্বার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গেছেন এবং কারও প্রতিপক্ষ নন। অন্যদিকে প্রধান অভিযুক্ত মুকসুদা বেগম ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বীরদর্পে জানান, তিনি ক্রয়সূত্রে মালিক হওয়ায় নিজের জায়গায় বেড়া দিয়েছেন। এ সময় তিনি সংবাদকর্মীদের দেখে নেওয়ার এবং মামলার হুমকিও প্রদান করেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিল্লোল চাকমা জানান, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং পূর্বেও একবার রাস্তাটি অবমুক্ত করেছিলেন। পুনরায় পথ বন্ধের লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সরেজমিনে যাওয়া সম্ভব হয়নি, তবে দ্রুতই ঘটনাস্থল তদন্ত করে ভুক্তভোগীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
