বিশ্বকাপের মহাগুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল মহারণের আগে মাঠের বাইরের উত্তাপ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াইকে কেন্দ্র করে কথার লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ইংলিশ শিবির। সাবেক তারকা জো কোলের দাবি, বিশ্বসেরা লিওনেল মেসিকে খেলায় ‘ঘুম পাড়িয়ে’ রেখেই ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে থ্রি লায়ন্সরা।
নেটফ্লিক্স স্পোর্টসের এক বিশেষ আলোচনায় গ্যারি লিনেকার, অ্যালান শিয়েরার ও মাইকা রিচার্ডসের সঙ্গে সেমিফাইনাল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন জো কোল। সেখানে মেসির বিপক্ষে ইংল্যান্ডের পরিকল্পনা কী হওয়া উচিত—এমন প্রশ্নে কোল অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেন, ‘আমাদের ওকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে। হ্যাঁ, একশ শতাংশ। আমরা সেটাই করব।’
জো কোলের এমন চরম আত্মবিশ্বাসী মন্তব্যের পর অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য সাবেকরা হাসতে হাসতেই তাঁকে সতর্ক করে দেন। ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষকে তাঁতিয়ে দেওয়ার মতো এমন বড় কথা না বলার পরামর্শ দিয়ে কেউ বলেন, ‘এখন এসব বলো না, আট মাস পর বলো।’ তবে কোল নিজের অবস্থানে অনড় থেকে দৃঢ়ভাবে ঘোষণা দেন, তাঁর বিশ্বাস ইংল্যান্ডই এবার ফাইনালে উঠছে।
অবশ্য জো কোলের এই অতি-উৎসাহী মন্তব্যের বিপরীতে আর্জেন্টিনার লড়াকু মানসিকতা নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মাইকা রিচার্ডস। তিনি মনে করেন, লিওনেল স্কালোনির দল অত্যন্ত চতুর এবং তাদের হারাতে ইংল্যান্ডকে রক্ত জল করতে হবে। তবে ইংলিশদের আক্রমণভাগের গতিময় ফুটবল আর্জেন্টিনার জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে বলে মনে করেন এই সাবেক ডিফেন্ডার।
উল্লেখ্য, জো কোলের এই মন্তব্য ফুটবল ভক্তদের কিছুটা বিস্মিত করেছে। কারণ অতীতে একাধিকবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর চেয়ে মেসিকে এগিয়ে রেখে লিওনেল মেসির ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে কোল রসিকতা করে বলেছিলেন, রোনালদোও রাতে ঘুমানোর সময় হয়তো আফসোস করেন কেন তিনি মেসির মতো ফুটবল শৈলী নিয়ে জন্মাতে পারলেন না।
অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগের দুই মূল স্তম্ভ ক্রিস্টিয়ান রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে নিয়ে এক ব্যতিক্রমী মন্তব্য করেছেন সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক গ্যারি নেভিল। নেভিলের মতে, ক্লাব ফুটবলে এই দুজনকে দেখলে মনে হতে পারে তারা যেকোনো মুহূর্তে গোল হজম করবে। তবে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে চাপালেই তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা ও অপ্রতিরোধ্য জুটি হিসেবে আবির্ভূত হন।
ইতিহাস গড়ার লক্ষে আগামী বুধবার আটলান্টায় মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। একদিকে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আলবিসেলেস্তেদের টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার মিশন, অন্যদিকে দীর্ঘ ৬০ বছরের শিরোপাখরা কাটানোর স্বপ্নে বিভোর থাকা ইংলিশদের সামনে ফাইনালের কঠিন চ্যালেঞ্জ।







