দেশে আর কখনো যেন ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচার মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে না পারে, সে জন্য সরকারি ও বিরোধী দলসহ দেশের সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
গতকাল বুধবার ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান ও ঘোষণা দেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে সামাজিক সুরক্ষামূলক কর্মসূচির গুরুত্ব এবং এই প্রক্রিয়ায় দেশের সব রাজনৈতিক শক্তির ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি সংসদকে জানান, বর্তমান সরকারের পর্যায়ক্রমিক সব কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’।
সংসদে ফ্যামিলি কার্ডের মতো কল্যাণমুখী সামাজিক পলিসিকে সমর্থন জানানোর জন্য তিনি বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিরোধী দলের সব সংসদ সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে দ্বিমত থাকতে পারে, কিন্তু দেশের প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার পুনরাবৃত্তি এবং বিদেশি তাঁবেদারি রুখতে হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক বৈষম্যের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে।
দেশের ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দিয়ে একটি টেকসই বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের বিস্তারিত রূপরেখাও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। এর পাশাপাশি তিনি কর্মসংস্থান ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় শিগগিরই এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের ঘোষণা দেন। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের মতো গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদেরও সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অঙ্গীকার তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে প্রণীত ৩১ দফা এখন জাতীয় দলিলে পরিণত হয়েছে। গত নির্বাচনে জনগণ এই ৩১ দফার প্রতি রায় দিয়েছে। এর পাশাপাশি নির্বাচনের আগে যে ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করা হয়েছিল, তার প্রতিটি দফা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার জনগণের কাছে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ।
শিক্ষা খাতকে পুনরুজ্জীবিত করার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত স্বৈরাচারী আমলে অটো প্রমোশন ও নকলকে উৎসাহিত করে ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার এই নেতিবাচক ধারা পরিবর্তন করছে। শিক্ষকদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও বিতর্কিত সিলেবাস সংশোধনের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে মতভিন্নতা থাকলেও কোনো ধরনের শত্রুতা থাকবে না বলে আশ্বস্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের পরিবর্তে দেশে কঠোরভাবে ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রিয় মাতৃভূমি যাতে আর কখনো কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের কবলে না পড়ে এবং তাঁবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত না হয়, সেই প্রশ্নে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যে জাতীয় ঐক্য অটুট থাকবে।







