সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শাহপরাণ হলের ক্যানটিনের খাবারের মান নিয়ে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিযোগ করায় এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধর করেছেন শাখা ছাত্রদলের দুই নেতা। শনিবার (১৮ জুলাই) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের দোকানসংলগ্ন এলাকায় এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
মারধরের শিকার খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আর অভিযুক্ত দুই ছাত্রদল নেতা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী তারেক রহমান এবং শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক ও পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী হাসিবুর রহমান। ক্যাম্পাসে তারেক সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকার এবং হাসিবুর সভাপতি রাহাত জামানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
ভুক্তভোগী খাইরুল খন্দকার জানান, গত ১৬ জুলাই তিনি হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ক্যানটিনের খাবারের বাজে অবস্থা নিয়ে প্রাধ্যক্ষকে ‘মেনশন’ করে একটি অভিযোগ দেন। এর জের ধরে ১৭ জুলাই রাতে তারেক ও হাসিবুর তাঁকে প্রাধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন। পরে শনিবার রাতে তিনি প্রধান ফটকে খাবার খেতে গেলে হাসিবুর ও তারেক তাঁকে ডেকে নিয়ে ক্ষমা না চাওয়ার কারণ জানতে চান এবং “থাপড়িয়ে দাঁত ফেলে দেব” বলে হুমকি দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে খাইরুল বুক, মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত পান। পরে শিক্ষার্থীরা তাঁকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা তারেক রহমান দাবি করেন, হলের গ্রুপে খাবারের বিষয়ে কথা বলায় প্রাধ্যক্ষ স্যার মন খারাপ করেছিলেন, তাই তাঁরা খাইরুলকে বোঝাচ্ছিলেন। কিন্তু জুনিয়র হয়েও খাইরুল তাঁদের সঙ্গে বাজে আচরণ করে এবং তেড়ে আসে। একপর্যায়ে হাতাহাতি হলে হাসিবুরের চশমা ভেঙে হাত কেটে যায়। তবে অপর অভিযুক্ত হাসিবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান এই ঘটনাকে হলের প্রাধ্যক্ষ ও তিনজন শিক্ষার্থীর মধ্যকার ব্যক্তিগত বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এদিকে শাহপরাণ হলের প্রাধ্যক্ষ ইফতেখার আহমদ মারধরের ঘটনায় তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করলেও, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের ওই অভিযোগ নিয়ে অভিযুক্ত দুই ছাত্রদল নেতার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল বলে স্বীকার করেছেন।
এদিকে এই হামলার প্রতিবাদে শনিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী, ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মী ও ছাত্রদলের একাংশের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তাঁরা উপাচার্যের অতিথি ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে এক কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত, জড়িতদের বহিষ্কার এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের তিন দফা দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য খায়রুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে জানান, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।







