পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিএনপির সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামেই চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভা হবে। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই বিষয়টি জানানো হবে।’
রোববার দুপুরে বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) ৩৬তম বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
নিজের নাম রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দয়া করে সংবিধানে যে নিয়ম রয়েছে, সেটি মেনেই দল সিদ্ধান্ত নেবে। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই চূড়ান্ত হবে।’
এর আগে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় পৌনে দুই বছর আগেই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। এ সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে কথা বলার আগে আরডিএর বার্ষিক পরিকল্পনা সম্মেলনে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শুধু অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়; কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রান্তিক কৃষকেরা কঠোর পরিশ্রম করেও উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, ফলে কৃষিকাজের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যাচ্ছে।
কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সরাসরি বিপণন ব্যবস্থার ওপর জোর দেন তিনি। পাশাপাশি গবেষণা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং উদ্ভাবনের ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, দেশে গবেষক ও উদ্ভাবকদের অনেক কার্যকর উদ্যোগ থাকলেও সেগুলোর যথাযথ প্রচার হয় না। গবেষণার ফল বাস্তবে প্রয়োগ এবং প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার বাড়াতে বেসরকারি খাতকে আরও সম্পৃক্ত করতে হবে।
তরুণদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। কৃষিপণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিপণনে আধুনিক উদ্যোগ গ্রহণ করলে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি আরও বলেন, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া গেলে দেশের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব মো. শওকত রশীদ চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরডিএর পরিচালক আবদুল মজিদ প্রামাণিক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এবং বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সারিয়াকান্দি-সোনাতলা আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, রাজশাহী বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার আনম রশিদ, কৃষিসচিব রফিকুল মোহাম্মদ, আরডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অধিবেশনে পল্লী উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সমবায়ভিত্তিক উন্নয়ন এবং টেকসই গ্রামীণ অর্থনীতি গড়ে তোলার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। আয়োজকদের মতে, দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে বিভিন্ন কারিগরি অধিবেশন, পরিকল্পনা পর্যালোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং আগামী অর্থবছরের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থাও নির্ধারণ করা হবে।







