কওমি ঘরানার তরুণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। কওমি আলেমদের একাংশ জামায়াতে যোগ দেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরাও দলটির প্রতি ঝুঁকে পড়ছেন এমন খবরে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে সংগঠনটি। এই পরিস্থিতিতে গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদরাসায় হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরীর আহ্বানে কওমি ঘরানার সাতটি ইসলামী দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে হেফাজত ও কওমিভিত্তিক সাতটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় হেফাজতের সিনিয়র নায়েবে আমির ও হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা মুফতি খলীল আহমদ কাসেমী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা উবাইদুল্লাহ ফারুক এবং ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজি আতাউর রহমানসহ অন্যান্য শীর্ষ আলেমরা অংশ নেন। বৈঠকে আগামীতে যেকোনো পরিস্থিতিতে কওমি ধারার দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে পথ চলার নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক সূত্রে জানা যায়, কওমি শিক্ষার্থীদের জামায়াতে যোগদান প্রতিহত করার বিষয়ে অভিভাবকতুল্য আলেমরা একমত পোষণ করেছেন। তাঁদের মতে, জামায়াতকে অনেকেই হকপন্থী ইসলামী দল মনে করেন না, ফলে সেখানে যোগ দিলে আকিদাগত বিভ্রান্তি তৈরির আশঙ্কা থাকে। তবে কওমি শিক্ষার্থীদের একটি অংশ বিএনপিতে যোগ দিলেও সেটিকে তারা রাজনৈতিক স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখছেন, কারণ অরাজনৈতিক বা অ-ধর্মীয় দল হওয়ায় সেখানে আকিদাগত প্রভাবের আশঙ্কা কম বলে মনে করেন তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী জানান, ১৬ জুলাইয়ের সভার মূল এজেন্ডা না থাকলেও প্রসঙ্গক্রমে শিক্ষার্থীদের জামায়াতে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি নিয়ে বিষদ আলোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সাথে কওমি তরুণদের একটি অংশ যে বিএনপির দিকেও ধাবিত হচ্ছে, সে বিষয়েও আগামীতে আলোচনার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।







