ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ হলের একটি রুমে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে দুই কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে ঘিরে ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক রাজনীতির পারদ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত ২৭ জুন হলে চিকিৎসার প্রয়োজনে আসা ওই দুই শিক্ষার্থীকে হলে থাকতে দেওয়ার সুযোগকে কেন্দ্র করে একে অপরের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও কাদা ছুড়াছুড়ির অভিযোগে জড়াচ্ছে প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনগুলো।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, ওই দুই কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার্থী চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে শহীদুল্লাহ্ হল সংসদের এজিএস ইব্রাহিমের কক্ষে সাময়িকভাবে ওঠেন। তাদের একজন ইব্রাহিমের গ্রামের আত্মীয় হওয়ার সুবাদে চিকিৎসা নিতে এসে এই আশ্রয়ের সুযোগ পান। কিন্তু পরবর্তীতে ইব্রাহিম ক্লাসে চলে গেলে এবং কক্ষে কেউ না থাকার সুযোগে তারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হন। একই কক্ষে থাকা ইব্রাহিমের রুমমেট বিষয়টি দেখতে পেয়ে ভিডিও ধারণ করেন এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বামপন্থি ও অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহল ও শিবির সমর্থকদের মতে, আটক দুজন ব্যক্তির কেউ-ই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গেও তাদের কোনো সাংগঠনিক বা প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। হলের একটি কক্ষে চিকিৎসার নাম করে সাময়িক আশ্রয় পেয়ে কোনো ব্যক্তি যদি গোপনে অপকর্ম করে, তবে তার পুরো দায় ওই কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী বা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সম্পূর্ণরূপে যুক্তিহীন।
একই সাথে ক্যাম্পাসের অন্যান্য ছাত্রসংগঠনগুলোর রাজনীতির মান নিয়ে নানা সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সম্প্রতি নিজেদের নীতিগত নানা ব্যর্থতা ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা নিয়ে যখন বিভিন্ন সংগঠন কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে, তখন এই অপ্রাসঙ্গিক ঘটনাটিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে শিবিরের ওপর সমকামী কর্মকাণ্ডের দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে। নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখতে বা দেউলিয়াত্ব ঢাকতে এমন নেতিবাচক প্রচার চালিয়ে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশকে কলুষিত করা হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।







