নরসিংদীর মনোহরদীতে জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও রাস্তার গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ নেতার ছেলের লাঠির আঘাতে মিজান মিয়া নামের এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বড়চাপা পূর্বপাড়া গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত মিজান মিয়া (৪০) স্থানীয় সফুর উদ্দিনের ছেলে এবং ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
নিহতের স্বজনদের বরাতে জানা যায়, বাড়ির পাশের একটি রাস্তা নিয়ে মিজান ও তাঁর চাচা—একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শহীদুল্লাহর দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এই বিষয় নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ অনুষ্ঠিত হলেও শহীদুল্লাহ তা মেনে নেননি। শনিবার দুপুরে রাস্তার পাশের একটি গাছ মিজান কাটতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে শহীদুল্লাহর ছেলে জীবন লাঠি দিয়ে মিজানের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা ও স্বজনেরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক খন্দকার আনিসুর রহমান জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মিজানের মৃত্যু হয়েছিল এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হওয়া যাবে।
মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূলতঃ চাচা-ভাতিজার জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ইতোমধ্যে মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।







