পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তিতে নির্মাণাধীন একটি দোকানের দেয়াল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের সভাপতি গাজী গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে। শনিবার বিকেলে কালাইয়া বাণিজ্যিক বন্দরের মার্চেন্টপট্টি এলাকায় হাজী মালেক মিয়ার ঘাটসংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের নিজস্ব জমিতে বৈধভাবে দোকান নির্মাণের কাজ চলছিল। সে সময় উপজেলা যুবদলের সভাপতি গাজী গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক এসে নির্মাণাধীন দেয়ালের একটি অংশ ভেঙে ফেলে। এতে নির্মাণকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
তবে যুবদল নেতা গাজী গিয়াস উদ্দিন এ অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরকারি খাসজমি ও সড়কের জায়গা দখল করে দেয়াল নির্মাণ করছিল, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অনুরোধে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং উপস্থিত উৎসুক জনতাই দেয়ালটি ভেঙে ফেলে। বিষয়টি তিনি উপজেলা প্রশাসনকে জানাবেন বলেও জানান।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে সরকার ১১ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি বিদ্যালয়ের নামে গেজেটভুক্ত ও নিবন্ধিত করে। পরে সড়ক নির্মাণের সময় বিদ্যালয়টি নিজস্ব জমি থেকে চার ফুট জায়গা ছেড়ে দেয়। সম্প্রতি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমোদনে সেখানে দোকান নির্মাণকাজ শুরু হয়, যা চলাকালেই এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুনূর রশীদ জানান, এই সম্পত্তির আয় দিয়েই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কাজ করা হয় এবং উপজেলার একমাত্র এই বিদ্যালয়েই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো মাসিক বেতন নেওয়া হয় না। তাই এ ধরনের হামলা ও ভাঙচুরে শিক্ষার্থীদের স্বার্থই সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এ বিষয়ে কালাইয়া হায়াতুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ জানান, বিস্তারিত জেনে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, জমির বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি) খতিয়ে দেখবেন; তবে ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে পুলিশ আইনি ব্যবস্থা নেবে।







