জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেনকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে তার আনা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন অথবা অভিযোগ প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জনির মাধ্যমে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে এ নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, আসিফ মাহমুদ ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত নেতা হিসেবে জনপরিসরে পরিচিত।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে বিথীকা বিনতে হোসেন অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হিসেবে তার নিয়োগ সহজ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে আসিফ মাহমুদ তিন কোটি টাকা দাবি করেছিলেন।
নোটিশে বলা হয়, এই অভিযোগ পরবর্তীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে আসিফ মাহমুদের ব্যক্তিগত, রাজনৈতিক ও পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে।
এতে আরও দাবি করা হয়, অভিযোগ প্রকাশের পর আসিফ মাহমুদের প্রতিনিধিরা একাধিকবার বিথীকা বিনতে হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগের পক্ষে নথি, অডিও, ভিডিও বা অন্য কোনো প্রমাণ উপস্থাপনের অনুরোধ জানান। যদিও তিনি প্রমাণ থাকার দাবি করেছেন, এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ দেননি বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসিফ মাহমুদের পক্ষের দাবি, অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এটি ভিত্তিহীন, মনগড়া ও বিদ্বেষপ্রসূত বলে প্রতীয়মান হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তার সম্মান ও জনমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়, মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্যের কারণে প্রচলিত আইনে দেওয়ানি ও ফৌজদারি দায় সৃষ্টি হতে পারে। দণ্ডবিধির ৫০০ ধারাসহ সংশ্লিষ্ট আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এ কারণে বিথীকা বিনতে হোসেনকে সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের পক্ষে সব ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় অভিযোগ প্রত্যাহার করে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়া এবং একই মাধ্যমে সমান গুরুত্ব দিয়ে তা প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ দাবি পূরণ না হলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আইনি নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসিফ মাহমুদ।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি দাবি করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকেই একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গণ-অভ্যুত্থানের নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও চরিত্রহননের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত দুই বছরে নানা অভিযোগ উঠলেও কোনো ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এসব অপপ্রচার শুধু ব্যক্তি আসিফ মাহমুদকে নয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব, চেতনা ও অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টার অংশ। ভবিষ্যতে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ, অপপ্রচার ও চরিত্রহননের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
