ইরানের পার্লামেন্টে (মজলিস) হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরে নৌ চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে একটি নতুন খসড়া আইন পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই প্রস্তাবিত আইনে মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের দৃষ্টিতে শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর সব ধরনের জাহাজ এই কৌশলগত আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে চলাচল নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
খসড়া আইনটিতে ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ধরনের সামরিক বা বেসামরিক পণ্য পরিবহনের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ইরানের সমর্থিত মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক জোট ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ অক্ষের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকলাপে জড়িত জাহাজ কিংবা কার্গোকেও হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করতে না দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, যেসব দেশ বা ব্যক্তি ইরানের ক্ষতি করেছে বলে তেহরান মনে করে, তারা নির্দিষ্ট ক্ষতিপূরণ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাদের জাহাজ চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। একই সঙ্গে কোনো জাহাজ এই আইন লঙ্ঘন করলে কার্গোর মোট মূল্যের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করার কঠোর বিধানও রাখা হয়েছে।
আইনটি পাস হলে হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ, প্রতিটি জাহাজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, সামগ্রিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং পরিবেশ সুরক্ষার পূর্ণ দায়িত্ব এককভাবে ইরান সরকার ও তাদের সশস্ত্র বাহিনীর ওপর ন্যস্ত করা হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ে তৈরি এই আইনটি এখনো খসড়া পর্যায়ে রয়েছে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
