নব্বই দশকের ঢাকাই চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি ও পরিচিত খল অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার (৯ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে। দুপুরে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটকের পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল এসে ডনকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়।
গতকাল রোববার বিকেলেই অভিনেতা ডনকে আদালতে হাজির করে তদন্তের স্বার্থে কারাগারে আটকে রাখার আবেদন জানান সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান। আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সিআইডি জানায়, ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন এবং মামলার বিষয়ে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে। এই মুহূর্তে তিনি জামিন পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াসহ পুনরায় পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আদালতে শুনানির সময় ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী রাষ্ট্রপক্ষে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেন। পিপি জানান, ভিন্ন একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া রিজভী আহমেদ নামে এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সেই জবানবন্দিতে রিজভী উল্লেখ করেন, সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার সঙ্গে চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গোপন সম্পর্ক ছিল। আর এই কারণেই সালমান শাহকে হত্যা করতে আজিজ মোহাম্মদ ভাই ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে ডনের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন।
আদালতে ডনের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর ভিত্তি করেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে দায়ের করা মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয় যে, এজাহারভুক্ত আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সালমান শাহকে হত্যা করেছেন। দীর্ঘ সময় পর ডন গ্রেপ্তার হওয়ায় এই বহুল আলোচিত মামলার তদন্তে নতুন মোড় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।







