হরমুজ প্রণালিকে শিগগিরই ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তার এই বক্তব্য সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গারিবাবাদি বলেন, টুইট, বিমানবাহী রণতরি, আদেশ কিংবা নির্বাচনি বক্তৃতার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি দখল করা সম্ভব নয়। ইরান কোনো হুমকিতে ভয় পায় না এবং শক্তি প্রদর্শনেও পিছিয়ে যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গারিবাবাদি আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষায়, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ‘শুধু ইরানের নির্দেশেই খোলা ও বন্ধ করা হবে’।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ নিজেদের পরাজয়ের বাস্তবতা স্বীকার না করে ‘বিভ্রমে’ থাকবে, ততক্ষণ ইরান অবরোধ বজায় রাখবে।
এর আগে শুক্রবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডে একটি পুলিশ একাডেমিতে দেওয়া বক্তৃতায় ট্রাম্প বলেন, খুব শিগগিরই তিনি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন।
বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সাধারণত সমুদ্রপথে পরিবহন করা বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যায়। ফলে এই জলপথ ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে সেখানে অবরোধ বজায় রেখেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ ওই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতে পারছে না। তবে ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড’ ঘোষণার বক্তব্যের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হয়নি।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কৌশলগত এই জলপথকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।







