মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি মহিলা মাদরাসার সামনে ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণে চারজন শিশু শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে আবিদা আক্তার (৮) নামের এক শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে কালকিনি পৌরসভার গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদরাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, মাদরাসার পার্শ্ববর্তী বাড়ির বাসিন্দা এক ব্যক্তি আগের দিন টেনিস বল সদৃশ একটি পরিত্যক্ত বস্তু কুড়িয়ে পেয়ে তাঁর ঘরের সিঁড়িতে রেখে দেন। সকালে মাদরাসায় আসার পর কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ওই সিঁড়িতে বসে টিফিন খাওয়ার সময় বস্তুটি টেনিস বল মনে করে খেলতে শুরু করে। খেলার একপর্যায়ে বলের আকৃতিতে তৈরি হাতবোমাটির বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণে আবিদা (৮), জান্নাত (৯), মিনহা (১০) ও মাইমুনা (৯) নামের চার মাদরাসা ছাত্রী আহত হয়। বিস্ফোরণের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসারত আবিদার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।
সংবাদ পেয়ে মাদারীপুর জেলা পুলিশ, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিপজ্জনক হাতবোমাটি সেখানে কীভাবে এবং কার মাধ্যমে এলো, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানান, ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িতদের সনাক্তকরণ ও ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
