কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়ি ও বাসভবনে হামলা চালিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের নিজ বাসভবনে ঢোকার মুখে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এমপি আমির হামজা অভিযোগ করেন, সারাদিনের গণসংযোগ শেষে বাড়ি ফেরার সময় তাঁর গাড়ি ও বাড়ির দরজা-জানালায় অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে তিনি ও তাঁর চাচাসহ কয়েকজন জামায়াত কর্মী আহত হন। হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল তাঁকে হত্যা করা এবং ঘটনার সময় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা নীরব ভূমিকা পালন করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার নেপথ্যে জানা গেছে, সম্প্রতি গণঅধিকার পরিষদের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এমপি আমির হামজা কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেন। এর প্রতিবাদে গণঅধিকার পরিষদ বিকেলে শহরের ছয়রাস্তার মোড়ে প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশটি সংসদ সদস্যের বাসভবনের কাছেই অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সমাবেশ শেষের দিকে পুলিশ প্রটোকল নিয়ে এমপির গাড়ি সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ির ভেতর থেকে স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
পরবর্তীতে মাগরিবের নামাজের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, আমির হামজার সমর্থকরা বেসবল ব্যাট ও লাঠিসোঁটা নিয়ে শহরের হাইস্কুল মার্কেটে তাঁদের জেলা কার্যালয়ে এবং পরে হরিপুর ব্রিজসংলগ্ন জেলা সভাপতি আব্দুল খালেকের অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
তবে আমির হামজার সমর্থকরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন, গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরাই প্রথমে তাঁদের ওপর হামলা চালান এবং তাঁরা কেবল নিজেদের আত্মরক্ষা ও প্রতিরোধ করেছিলেন। এ ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং আমির হামজা গণঅধিকার পরিষদের জেলা সভাপতিসহ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জানিয়ে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ জানান, সংঘাত এড়াতে পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। শহরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পুলিশ ঘটনাটির ওপর কড়া নজর রাখছে।
