সুদীর্ঘ এক যুগ ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মো. এনামুল হক জুলহাস। ২০১৪ সাল থেকে বিগত সরকারের আমলে সব রাজপথের আন্দোলনে প্রথম সারিতে সক্রিয় থেকেছেন তিনি। ২০২৪-এর চব্বিশের জুলাই আন্দোলনেও ঢাকার উত্তরায় সরাসরি লড়াই করেছিলেন। তবে এত ত্যাগের পরও ‘জুলাই যোদ্ধা’র তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি।
কেবল ছাত্রদলের রাজনীতি করার অপরাধে ২০১৭ সালে আনসার ব্যাটালিয়নের চাকরির মাঠ থেকেই বাদ দেওয়া হয় জুলহাসকে, এমনকি তাঁকে লিখিত পরীক্ষাতেও বসতে দেওয়া হয়নি। দীর্ঘ সংগ্রাম আর দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও জুলহাসের ভাগ্যে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি; বরং সংসারের অভাব তাড়াতে তিনি এখন ঢাকার রাস্তায় ভ্যানে ঘুরে ঘুরে ডাব বিক্রি করছেন।
ডাব বিক্রির এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও ছাত্রদলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিবেক নাড়া দেয়। জুলহাসের বিগত রাজনৈতিক ত্যাগ ও আন্দোলনের ছবি পোস্ট করে নেতাকর্মীরা রাজনীতিতে ত্যাগের অবমূল্যায়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং তাঁর পাশে দাঁড়ানোর আকুতি জানান।
এনামুল হক জুলহাস পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য এবং রনগোপালদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। জেলে পরিবারে বেড়ে ওঠা ৭ সদস্যের সংসারের তিনি বড় সন্তান। অভাবের তাড়নায় স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় এসে তিন মাস ধরে ডাব বিক্রি করে অর্জিত আয় থেকে গ্রামে বাবা-মা ও ভাইবোনদের কাছে টাকা পাঠান।
চাকরি ও সহায়তার জন্য পটুয়াখালীর বহু সিনিয়র নেতার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো লাভ হয়নি বলে জানান জুলহাস। পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে ২০১৬ সালে এসএসসি পাসের পর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় তাঁর। কোনো সুবিধা পাওয়ার আসায় নয়, বরং ভালোবাসার জায়গা থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রণগোপালদী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি এইচএম ইকবাল বশির জুলহাসের ত্যাগের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তাঁরা জানান, দুঃসময়ে দলের পেছনে শ্রম দেওয়া ত্যাগী কর্মীরা আজ অবহেলিত ও কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। জুলহাসের এই দুর্দিনে দলের ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের তাঁর পাশে দাঁড়ানো উচিত বলে তাঁরা মনে করেন।
