নোয়াখালী সদর উপজেলার অশ্বদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেছেন। পদক পাওয়ার এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর নোয়াখালী অঞ্চলের স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিগত ১৭ বছর ধরে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীর ওপর সরাসরি নির্যাতন, মামলা-হামলা এবং নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমন একজন চিহ্নিত নেতার হাত থেকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে পুরস্কার গ্রহণ করাকে মানতে পারছেন না মাঠপর্যায়ের কর্মীরা।
এই ঘটনা কেন্দ্র করে তৃণমূলের রাজনীতিতে চরম হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন, যারা বছরের পর বছর বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন চালিয়েছে, তারা কি তবে এতদিন দলের ভেতর ‘গুপ্ত’ হিসেবে অনুপ্রবেশ করেছিল? পদকপ্রাপ্তির ঘটনাটি তাদের সেই সন্দেহই জোরালো করছে।
অন্যদিকে, বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে চরম নির্যাতন, কারাবরণ ও বঞ্চনার শিকার হওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীরা চরম অবহেলায় দিন কাটাচ্ছেন। সরকারের বা দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের ছায়াতেও তারা পৌঁছাতে পারছেন না।
তৃণমূলের অনেক ত্যাগী কর্মী এখনও কোনো মূল্যায়ণ পাননি। রাজপথের লড়াই-সংগ্রামে অবদান রাখা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে অনেকে এলাকায় ক্ষুদ্র পরিসরে বিভিন্ন কাজ করে বা দিন এনে দিন খেয়ে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। একদিকে অত্যাচারী নেতাদের এমন সম্মাননা লাভ এবং অন্যদিকে ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন—রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বিষাদময় বৈষম্যের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।
