ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল মামুনকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছে হল সংসদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় হলের প্রশাসনিক কার্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে প্রভোস্টের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে মানসিক ও শারীরিকভাবে হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক লিখিত স্বীকারোক্তি নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। রোববার রাতের এই ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা প্রভোস্টের পদত্যাগের দাবিতে তীব্র বিক্ষোভ করেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে নিজের কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন।
ঘটনার সুরাহায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রক্টরকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না আসায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সোমবার হল অফিস বন্ধের সিদ্ধান্ত জানিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—শিক্ষার্থীকে শারীরিক ও মানসিক হেনস্তার অভিযোগের মূল সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে প্রকাশ করা, ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রভোস্ট ও সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বহিষ্কার করা এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।
শিক্ষার্থীরা আরও হুঁশিয়ারি দেন, যদি কোনো কারণে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে ফেলা হয়, তবে সেটিকে অভিযোগের সত্যতার প্রমাণ হিসেবে ধরে নিয়ে প্রভোস্টসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে।
হল প্রাঙ্গণে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। সংগৃহীত গণস্বাক্ষরসহ পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক স্মারকলিপি প্রদান করা হবে বলেও শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
