রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগে পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে একের অধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গঠিত কমিটিগুলোর সুপারিশ ও সার্বিক তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে সিন্ডিকেট সভায় তাঁকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ৪ আগস্ট নিজ বিভাগের এক ছাত্রী ক্লাসের উপস্থিতি নম্বর ও পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে কথা বলতে শিক্ষকের চেম্বারে গেলে এই লাঞ্ছনার শিকার হন। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষক সাজেশনের কথা বলে প্রশ্নপত্র দিয়ে খাতায় উত্তর লিখতে বলেন এবং একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থীর শরীরে অশোভন স্পর্শ করেন ও কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেন।
পরবর্তীতে ১৩ আগস্ট ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা বিভাগের সভাপতি বরাবর ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রথমে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অধীনে অধিকতর তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। টানা আন্দোলনের পর গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তাঁকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ জানান, যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির পৃথক দুটি তদন্ত কমিটির সুপারিশের পর বিধি অনুযায়ী উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হলেও তিনি লিখিত বক্তব্য দাখিল করেন। পরিশেষে উচ্চতর কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট এই স্থায়ী বরখাস্তের অনুমোদন দেয়।







