সৌদি আরবের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্কুলের পাঠ্যবইয়ে সহনশীলতা, সহাবস্থান এবং সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপক সংস্কার আনা হয়েছে। একটি সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, নতুন শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইগুলো থেকে ইহুদিবিদ্বেষী ও উগ্রবাদী অবশিষ্ট বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ বাদ দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে ভিন্ন সংস্কৃতি ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতি পারস্পরিক সম্মান এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
শিক্ষাক্রমের পরিবর্তন অনুযায়ী, ইসলাম শিক্ষাবিষয়ক বইগুলোতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সঙ্গে তৎকালীন ইহুদি, খ্রিস্টান ও অন্যান্য বৈচিত্র্যময় সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও চুক্তির উদাহরণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি যুদ্ধ সম্পর্কিত পাঠে বেসামরিক নাগরিক ও অহিংস ব্যক্তিদের সুরক্ষার বিষয়টি স্পষ্টভাবে যুক্ত করা হয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনা সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলোও পরিমার্জন করা হয়েছে, তবে নবম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে এখনো হলোকাস্টের উল্লেখ অনুপস্থিত রয়েছে।
ইসরায়েল সম্পর্কে ব্যবহৃত রাজনৈতিক পরিভাষাতেও সূক্ষ্ম পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। পাঠ্যবইয়ে পূর্বে ব্যবহৃত ‘জায়নবাদী শত্রু’ শব্দটির পরিবর্তে এখন ‘ইসরায়েলি দখলদারিত্ব’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে। অবশ্য মানচিত্রে ইসরায়েলকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, বরং বইগুলোতে একে একটি দখলদার ভূখণ্ড হিসেবেই চিত্রিত করা রাখা হয়েছে।
এছাড়া সৌদি সরকারের ‘ভিশন ২০৩০’ আধুনিকায়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সমাজ ও অর্থনীতিতে নারীদের অবদানকে পাঠ্যক্রমে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইমপ্যাক্ট-এসই (IMPACT-se)-এর প্রধান নির্বাহী মার্কাস শেফ শিক্ষাক্রমের এই পরিবর্তনকে ‘অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এ ধরনের শিক্ষা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সহনশীলতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে।







