আহমাদ আতাউল্লাহ সালমান জানিয়েছেন, তিনি আর মিউজিকের সঙ্গে গান পরিবেশন করবেন না। এটি তার নিজের ও পরিবারের সিদ্ধান্ত বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় উল্লেখ করেছেন তিনি।
একই সঙ্গে নিজের আগের কিছু পরিবেশনা নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে সবার কাছে ক্ষমা ও দোয়া চেয়েছেন সালমান। তিনি জানিয়েছেন, যারা তাকে স্নেহ করেন এবং কল্যাণ কামনা করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে মিউজিকের সঙ্গে গান পরিবেশন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়ে আসছিলেন।
সালমান বলেন, ২০২৪-পরবর্তী বিশেষ প্রেক্ষাপটে সংগঠনের কয়েকজনের পরামর্শে সাধারণ মানুষের কাছে কাওয়ালির মাধ্যমে একটি নতুন ধারার সাংস্কৃতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ‘কাসিদা ব্যান্ড’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানেও তিনি গান পরিবেশন করেন।
তবে এসব পরিবেশনায় বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সালমানের পারিবারিক ও রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে তার সমর্থকদের মধ্যেও নানা ধরনের মতামত দেখা যায়।
সালমান জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ছেলে। বাবার ইসলামী রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে ছেলের মিউজিকের সঙ্গে গান পরিবেশনের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন ও মন্তব্য করেছেন।
তবে সালমান তার ঘোষণায় স্পষ্ট করেছেন, তার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল মানুষের কাছে একটি নির্দিষ্ট সাংস্কৃতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া। সেই উদ্দেশ্যকে তিনি এখনও সঠিক বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, এখন থেকে মিউজিকের সঙ্গে আর কোনো গান পরিবেশন করবেন না। তবে এর অর্থ সংগীতচর্চা পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া নয়—বরং বাদ্যযন্ত্র ছাড়া গান পরিবেশনের ধারায় থাকার সম্ভাবনাই তার ঘোষণায় স্পষ্ট হয়েছে।
সালমানের এই সিদ্ধান্তকে তার অনুসারীদের অনেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা সমালোচনা ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটেও এই সিদ্ধান্তের প্রভাব রয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী সময়ে দেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে কাওয়ালির নতুন করে জনপ্রিয়তা তৈরিতে সালমানের ভূমিকা নিয়ে তার সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ক্যাম্পাস ও সাংস্কৃতিক আয়োজনে তার পরিবেশনা তরুণদের মধ্যে সাড়া ফেলেছিল।
শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চ ও কাসিদার যৌথ আয়োজনের পর কাওয়ালি নিয়ে দেশজুড়ে আগ্রহ আরও বাড়ে। পরবর্তীতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও কাওয়ালি অনুষ্ঠানের আয়োজন হতে দেখা যায়।
এই ধারায় সালমানকে অন্যতম পরিচিত তরুণ শিল্পী হিসেবে সামনে আসতে দেখা যায়। তার আবেগঘন গায়কী ও পরিবেশনার কারণে ইসলামী ঘরানার বাইরে থাকা শ্রোতারাও তার গান শুনেছেন বলে তার অনুসারীদের দাবি।
কাসিদার মাধ্যমে সালমানের দুটি মৌলিক গানও শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে রমজানকেন্দ্রিক একটি গান এবং ভাটিয়ালি ধাঁচের আরেকটি গান বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
‘আল্লাহ নামটি রক্ষা কবচ’ গানটিও শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। গানটির মাধ্যমে সালমানের নিজস্ব গায়কী ও আবেগপূর্ণ পরিবেশনা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
তবে কাওয়ালি ও অন্যান্য পরিবেশনায় বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিতর্কও তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ তার গানকে প্রশংসা করলেও অন্য একটি অংশ বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের কারণে আপত্তি জানায়।
সালমানের জনপ্রিয়তার সঙ্গে তার পারিবারিক পরিচয়ও ধীরে ধীরে ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। মিয়া গোলাম পরওয়ারের ছেলে হিসেবে তার পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পর জামায়াত-শিবিরের সমর্থকদের একটি অংশ তাকে নিজেদের ঘরানার শিল্পী হিসেবে উৎসাহিত করে।
পরবর্তীতে তার গানে বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি নিয়েই সেই একই পরিসরে সমালোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে মিউজিক থেকে সরে আসার পরামর্শও দেওয়া হয় বলে তার ঘনিষ্ঠদের বক্তব্য।
সালমানের সাম্প্রতিক ঘোষণায় অবশ্য কোনো রাজনৈতিক চাপ বা নির্দিষ্ট ব্যক্তির নির্দেশের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বিষয়টিকে নিজের ও পরিবারের সিদ্ধান্ত হিসেবেই তুলে ধরেছেন।
ঘোষণার শেষাংশে তিনি বলেন, তার কোনো কথা বা কাজের কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তাকে যেন ক্ষমা করা হয়। একই সঙ্গে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
তিনি আরও দোয়া করেন, আল্লাহ যেন তার সব গুনাহ মাফ করে দেন এবং ভবিষ্যতের পথচলায় তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দেন।
