বিদ্যুতের লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করায় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে আরাফাত হোসেন (২২) নামে এক কলেজছাত্রকে তুলে নিয়ে মারধর ও মুক্তিপণ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে আড়াইহাজার থানার পাশে একটি ক্লাব ঘরে এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আরাফাত হোসেন সরকারি সফর আলী কলেজের স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র এবং বিশনন্দী ইউনিয়নের কড়ইতলার বেনু ফকিরের ছেলে। অভিযুক্ত প্রধান ব্যক্তি আতাউর রহমান সানি আড়াইহাজার পৌরসভা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত।
আরাফাতের পরিবার জানায়, তিনি থানার ভেতর মোটরসাইকেল রেখে জিমে যান। পরে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হতেই আতাউর রহমান সানির নেতৃত্বে কয়েকজন তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে ‘নজরুল ইসলাম আজাদ জনকল্যাণ পরিষদ’ নামের একটি ক্লাবে আটকে রাখে। সেখানে তাঁকে মারধরের পাশাপাশি দুই দফায় বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয় এবং জোরপূর্বক ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ স্বীকার করিয়ে ভিডিও চিত্র রেকর্ড করা হয়।
আরাফাতের চাচা ও শ্রমিক দল নেতা দাইয়ান ফকির অভিযোগ করেন, লোডশেডিং নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করায় তাঁর ভাতিজাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মারধর করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তাঁদের পরিবার বিএনপি ও শ্রমিক দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা সত্ত্বেও আরাফাতকে সাবেক আওয়ামী সংসদ সদস্যের লোক বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ছাড়া পেয়ে আরাফাত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
এদিকে আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন জানান, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ক্লাবের ভেতরে মারধরের সত্যতা পেয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব মোবারক হোসেন জানান, দলীয় পরিচয়ে কেউ অপরাধ করলে আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভুক্তভোগী আরাফাতও সরকার বিরোধী বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করেছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
