সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডে নতুন করে উঠে এসেছে একটি সিডি সংক্রান্ত চাঞ্চল্যকর তথ্য এবং অভিনেত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কালচারাল এক্টিভিস্ট রোকেয়া প্রাচীর নাম। প্রসিকিউশন ও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন সংবেদনশীল ঘটনা ও সাবেক সেনাসদস্য জিয়াউল আহসানের একটি গুমের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য ও ফোনকল রেকর্ড সামনে আসে।
গুমের ওই ঘটনার ফোনকল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে জিয়াউল আহসান একজন সার্জেন্টকে রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে দুইটা সিডি সংগ্রহ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। একই দিন তিনি ওই সার্জেন্টকে আগামী দুই দিনের মধ্যে বড় কোনো ঘটনা ঘটতে পারে জানিয়ে প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেন। সময়ের এই কাকতালীয় মিল হত্যা মামলার তদন্তে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন সময়ে ওঠা তথ্যানুযায়ী, মেহেরুন রুনি হবিগঞ্জের বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ডের বিভিন্ন তথ্য ও ভিডিও ফুটেজ নিয়ে কাজ করছিলেন এবং একটি স্পর্শকাতর প্রতিবেদনও তৈরি করেছিলেন। তবে তৎকালীন সময়ে টিভি চ্যানেলে সেই প্রতিবেদন প্রচার না করায় তিনি মূল ডকুমেন্টের কিছু অংশ নিজের কাছে রেখে দেন। হত্যাকাণ্ডের পর সেই ল্যাপটপটি গায়েব হয়ে যায় এবং একই সাথে টেলিভিশন চ্যানেলের সার্ভার থেকেও উক্ত গ্যাসফিল্ড সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত ও ভিডিও ফুটেজ চুরির ঘটনা ঘটেছিল বলে তেজগাঁও থানায় দুটি জিডি করা হয়।
এছাড়া তৎকালীন সামিট গ্রুপ ও সরকারি উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির সংবেদনশীল প্রতিবেদন প্রস্তুত সংক্রান্ত কিছু পুরানো দাবি ও অভিযোগও এতে যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে দুই দিন আগে পাওয়া সিডি সংগ্রহ, জিয়াউল আহসানের আগাম সতর্কবার্তা এবং সাগর-রুনীর কাছে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও ল্যাপটপ নিখোঁজের বিষয়গুলো পাশাপাশি রেখে নতুন কোণ থেকে এই জোড়া খুনের ঘটনার বিচারিক ও প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
