দফায় দফায় ভারী বৃষ্টিতে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার সকাল থেকেই কলকাতায় থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যানজট ও জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মস্থলে যাতায়াতকারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
ভারী বৃষ্টির কারণে বাঁকুড়া ও পুরুলিয়াতেও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। বাঁকুড়ায় একটি সেতু ভেঙে পড়ার পাশাপাশি কয়েকটি কজওয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। বীরভূমে ময়ূরাক্ষী নদীর পানি বাড়ায় দেখা দিয়েছে প্লাবনের আশঙ্কা। অন্যদিকে হাওড়ায় জমে থাকা পানিতে এক যুবকের লাশ ভাসতে দেখা গেছে।
নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের দিকে অগ্রসর হওয়ায় সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। বুধবারও এর প্রভাবে কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে আগামী কয়েক ঘণ্টাতেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
কলকাতা পৌরসভার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পামার ব্রিজ এলাকায় ৫৬ মিলিমিটার, তপসিয়ায় ৪৬ মিলিমিটার, বালিগঞ্জে ৪৪ মিলিমিটার এবং মোমিনপুরে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
বৃষ্টির পানিতে বাঘাযতীন উড়ালপুলের নিচে, ঠাকুরপুকুরসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। উডবার্ন পার্ক রোড, হসপিটাল রোড, এটিএম রোড, জাস্টিস চন্দ্রমাধব রোড, হেস্টিংস পার্ক রোড, পিটিএস, পোর্ট এরিয়ার ৫ নম্বর গেট, বর্ধমান রোড ও ডিএইচ রোডেও পানি জমেছে।
এ ছাড়া হেস্টিংসের কাছে উড়ালপুলের নামার মুখ, সেন্ট্রাল-আমহার্স্ট স্ট্রিট, থিয়েটার রোড ও ওয়াটারলু স্ট্রিটেও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। ভবানীপুরের কালীঘাট, হরিশ মুখার্জি স্ট্রিট এবং ন্যাশনাল লাইব্রেরির সামনের সড়কও পানিতে ডুবে যায়। এতে বিভিন্ন স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয় এবং দুর্ভোগে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।
বাঁকুড়ায় সেতু ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
লাগাতার বৃষ্টিতে বাঁকুড়া জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুমনি খালের প্রবল স্রোতে পাত্রসায়র ব্লকের জামকুড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একটি ভাসা সেতু ভেঙে গেছে। ফলে দুই পাশের মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় তিন বছর আগে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের অর্থায়নে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি ভেঙে যাওয়ায় পাত্রসায়র ব্লক সদর থেকে এলাকার ২০ থেকে ২৫টি গ্রামের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে দ্বারকেশ্বর নদের পানি বাড়ায় ভাদুল ও মীনাপুরের দুটি কজওয়ে পানিতে তলিয়ে গেছে। মেজিয়ায় মাতাবেল খালের পানিতে কজওয়ে ডুবে যাওয়ায় মেজিয়া-ছাতনা রাজ্য সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
ময়ূরাক্ষীর পানি বাড়ায় প্লাবনের আশঙ্কা
বৃষ্টির কারণে বীরভূমের ময়ূরাক্ষী নদীর পানিও বাড়ছে। বুধবার সকালে ডিম পাড়া বাঁধ থেকে ৯ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে। এতে নদীসংলগ্ন এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নদীর পানি আরও বাড়লে বাঁধ থেকে অতিরিক্ত পানি ছাড়ার প্রয়োজন হতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হাওড়ায় পানিতে যুবকের লাশ
হাওড়ার ডোমজুরের মাকড়দহ এলাকায় জমে থাকা পানিতে সহদেব বাছার নামে এক যুবকের লাশ ভাসতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার দুপুরে বাজারে গিয়েছিলেন সহদেব। বাজার শেষে বাড়ি ফেরার সময় বাড়ির কাছেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা ডোমজুর থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের একাংশের ধারণা, পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
স্থানীয়রা জানান, মাকড়দহের বিভিন্ন এলাকায় কোথাও কোমরসমান, আবার কোথাও হাঁটুপানি জমেছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জলাবদ্ধতার সমস্যা থাকলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।
