ছয় নবজাতকের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনায় ৪৭ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হওয়া রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতাল স্বাভাবিক সেবাদান কার্যক্রমে ফিরেছে। মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, প্রসূতি ও শিশু বিভাগ এবং ডায়ালাইসিস ইউনিটসহ প্রতিটি বিভাগে রোগীদের ভিড় ও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তুলনামূলক কম খরচ এবং নার্স-চিকিৎসকদের পরিচর্যার কারণে সাময়িক অসন্তোষ কাটিয়ে আবারো আস্থায় ফিরছেন সেবাগ্রহীতারা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইসেন্স পুনর্বহালের পর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে অবকাঠামোগত ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডসহ প্রতিটি বিভাগে ‘পজিটিভ অক্সিজেন প্রেসার’, পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ও আলো-বাতাস নিশ্চিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে সংক্রমণ প্রতিরোধ ব্যবস্থার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা বাড়াতে নতুন করে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ৭০০ শয্যার এই অলাভজনক হাসপাতালে ২০০টি শয্যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা দিয়ে থাকে। বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার রোগী সেবা নেন এবং গড়ে ৩০-৩৫টি স্বাভাবিক ও ৬০-৬৫টি সিজারিয়ান ডেলিভারি সম্পন্ন হয়। বিশেষ করে স্বল্পমূল্যে ডায়ালাইসিস ও কম খরচে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু থাকায় ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষেরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।
গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের গাফিলতি ও কর্মীদের চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে ১১ জুন প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে মৃত পরিবারগুলোকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং হাসপাতাল পরিচালনায় তিন শর্ত মেনে চলার প্রতিশ্রুতিতে ২৭ জুলাই পুনরায় লাইসেন্স ফিরিয়ে দেওয়া হলে হাসপাতালটি পূর্ণ উদ্যমে স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা শুরু করে।







