কয়েক সপ্তাহের বিরতির পর নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক হামলা ও পাল্টাহামলা বৃদ্ধির পেছনে তেহরানের রণকৌশলকে বড় কারণ হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ও থাড-এর মতো অত্যাধুনিক এয়ার ডিফেন্স ব্যবস্থা প্রায় ব্যর্থ হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পিয়ংইয়ংয়ের তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র এবং সামরিক প্রযুক্তির কারণেই ইরান এমন অভাবনীয় সাফল্য পাচ্ছে।
ইরান ও উত্তর কোরিয়ার এই ঘনিষ্ঠতার পেছনে দীর্ঘ ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামিক বিপ্লবের পর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে দেশটির তেল অর্থনীতি চরম সংকটে পড়ে। প্রায় একই সময়ে অর্থনৈতিক মন্দার মুখে পড়ে উত্তর কোরিয়াও। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে সোভিয়েত প্রযুক্তির ‘স্কাড-বি’ ও অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা ও প্রকৌশলী দিয়ে ইরানকে সামরিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সাহায্য করে পিয়ংইয়ং, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে ইরানের ‘শাহাব’ ও ‘খোররামশাহর’ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র নির্মিত হয়।
মার্কিন বাহিনী সম্প্রতি ইরানের লারাক দ্বীপে হামলা চালিয়ে হরমুজ প্রণালীতে মাইনিং কাজে ব্যবহৃত রকেট লঞ্চার ধ্বংস করে। এর পরপরই উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন হামলায় এক শিশুসহ ৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হলে তীব্র ক্ষোভ ছড়ায়। ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসও এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানায়। জবাবে ইরান জর্ডন, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও একঝাঁক ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং ইরানের ভঙ্গুর অর্থনীতি তাদের দ্রুত আলোচনার টেবিলে বাধ্য করবে। অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই মার্কিন হামলার ‘অবিস্মরণীয়’ ও কঠোর জবাব দিতে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরকে (আইআরজিসি) নির্দেশ দিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার পরোক্ষ সহায়তায় ইরান শিগগিরই আন্তঃমহাদেশীয় প্রযুক্তি অর্জনে সফল হতে পারে বলে শঙ্কায় রয়েছে ওয়াশিংটন।
