প্রস্তাবিত ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর কিছু বিষয় কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বিলটি চলতি অধিবেশনে পাস না করে শরিয়াহ আইনের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠিয়ে পর্যালোচনা ও সুপারিশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রোববার জাতীয় সংসদে বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আল্লাহর নির্ধারিত বিধান যারা বিশ্বাস করেন, তাদের কাছে এ ধরনের আইন কীভাবে গ্রহণযোগ্য হবে—এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ প্রসঙ্গে তিনি পবিত্র কোরআনের সূরা নিসার ১১ থেকে ১৪ নম্বর আয়াতের উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আয়াতে উত্তরাধিকার বণ্টনের মূলনীতি এবং তা অনুসরণের পরিণতি সম্পর্কে নির্দেশনা রয়েছে।
উইল ও হেবার বিষয় তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, হেবার মাধ্যমে কাউকে সম্পত্তি দেওয়া হলে তাকে জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তির মালিকানা ও ভোগের সুযোগ দিতে হবে। মৃত্যুর পর কার্যকর হওয়ার শর্ত থাকলে সেটি হেবা নয়, বরং ওসিয়তের আওতায় পড়ে। আর ওসিয়তের ক্ষেত্রেও কোরআন ও হাদিসে নির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
তার দাবি, প্রস্তাবিত বিলে এসব বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনায় না থাকায় শরিয়াহর মৌলিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
নিজেকে শরিয়াহ বিশেষজ্ঞ হিসেবে দাবি না করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি কোনো ফকিহ বা মুফতি নন; কোরআনের একজন সাধারণ ছাত্র হিসেবে কোরআন ও হাদিস থেকে যে বিষয়গুলো বুঝেছেন, সেগুলোই সংসদে তুলে ধরেছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি মানুষের ঈমান ও আকিদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়া এটি পাস করা হলে সমাজে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রকৃত হকদারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তবে মানবিক বিবেচনায় পিতা-মাতার অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিলটি চলতি অধিবেশনে পাস না করে শরিয়াহ আইনের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিলে তা জাতির জন্য কল্যাণকর হবে।
এ প্রক্রিয়ায় ইসলামী ফাউন্ডেশনকে সম্পৃক্ত করারও প্রস্তাব দেন তিনি। তার মতে, ইসলামী ফাউন্ডেশন চাইলে দেশের বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি স্কলারদের নিয়ে বিলটি পর্যালোচনা করে সংসদের সামনে সুপারিশ উপস্থাপন করতে পারে।
তিনি বলেন, সংসদের সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটি এই উদ্যোগ গ্রহণ করলে সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানোর পাশাপাশি ‘আল্লাহর আইনের খেলাফ’ থেকে দেশকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।
