ভারতে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বসে পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থা ও ঔপনিবেশিক মানসিকতার তীব্র সমালোচনা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি মন্তব্য করেন, যারা বিশ্বকে নিজেদের স্বার্থে ‘সমৃদ্ধ বাগান’ এবং বৈশ্বিক বাকি অংশকে ‘বন্য জঙ্গল’ হিসেবে বিবেচনা করে অন্যের ওপর ভর করে বেঁচে থাকতে অভ্যস্ত, তারাই মূলত উদীয়মান বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা গঠনের প্রধান বাধা।
পুতিন অভিযোগ করেন, পশ্চিমা দেশগুলো বিশ্ব রাজনীতির পরিবর্তনশীল নতুন বাস্তবতাকে কোনোভাবেই মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। নিজেদের নতুন প্রতিযোগীদের দমিয়ে রাখার জন্য তারা শুল্ক যুদ্ধ, অবৈধ অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা, ব্ল্যাকমেইল, দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নগ্ন হস্তক্ষেপ এবং সরাসরি সামরিক শক্তির অপব্যবহারের মতো অনৈতিক পথ বেছে নিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা ও জাতিসংঘের গুরুত্ব তুলে ধরে রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কাঠামোয় বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিয়েছে এবং বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা হ্রাস পাচ্ছে। রাশিয়া বৈশ্বিক নীতি নির্ধারণে জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা শক্তিশালী করার পক্ষপাতী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের একমাত্র প্রধান উৎস হওয়া উচিত জাতিসংঘের সনদ, অথচ কিছু দেশ নিজেদের তৈরি করা অস্পষ্ট নিয়মের মাধ্যমে সেই সনদকে প্রতিস্থাপন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
এর পাশাপাশি আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মতো বৈশ্বিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত সংস্কার দাবি জানান পুতিন। তিনি উল্লেখ করেন, এসব সংস্থা বহুকাল আগের ভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ক্ষমতার ভরকেন্দ্র উন্নয়নশীল বাজারের দিকে দ্রুত সরে আসলেও সংস্থাগুলো এই নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হিমশিম খাচ্ছে।
