দেশের জ্বালানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে সরকারকে দেওয়া সহযোগিতার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে বিরোধী দলকে চৌকিদার ও ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হয় এবং দেশের স্বার্থে যেখানেই অসংগতি দেখা যাবে, সেখানেই তারা কথা বলবেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত জেলা জামায়াতের দায়িত্বশীলদের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান সরকার পবিত্র কুরআনের স্পিরিটের বিরুদ্ধে গিয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত ও আইন পাস করেছে। ক্ষমতায় আসার আগে অনির্বাচিত কাউকে দায়িত্ব না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন তার উল্টোটা করা হচ্ছে। এছাড়া সংসদের ভেতরে বারবার জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বলেও কোনো সমাধান না পেয়েই জামায়াতকে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আমির বলেন, ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে হাজার হাজার মানুষ না খেয়ে মারা গিয়েছিলেন, যার পেছনে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের চরম ব্যর্থতা, গুম, খুন ও রাজনৈতিক দমন-পীড়ন দায়ী ছিল। পাশাপাশি ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের লগি-বৈঠার তাণ্ডবের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তৎকালীন চারদলীয় জোট সরকারের মেয়াদ শেষে বায়তুল মোকাররমের পূর্বনির্ধারিত সমাবেশে অস্ত্রধারীরা নৃশংস হামলা চালিয়ে জামায়াত-শিবির কর্মীদের নির্মমভাবে হত্যা করে লাশের ওপর তাণ্ডব চালিয়েছিল।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপট ও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমির বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন ও আমূল সংস্কার চেয়েছিল, কিন্তু সরকার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে এবং গণভোটের রায়ও বাস্তবায়ন করেনি। বর্তমানে তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে শিল্প খাতের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা অব্যাহত থাকলে মালিকদের পক্ষে ব্যাংকঋণ পরিশোধ এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে। তিনি অন্যান্য খাত থেকে বাজেট কাটছাঁট করে হলেও শিল্পে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।
দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট দমন বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নিত্যপণ্যের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ জনজীবন অতিষ্ঠ। মহামান্য রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি উল্লেখ করেন, দেশে দুর্নীতির মাত্রা আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই দুর্নীতিতে লাগাম টানা না গেলে সরকারের কোনো উন্নয়ন পরিকল্পনাই সফল হবে না। জনগণের মৌলিক দাবি ও অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লংমার্চসহ রাজপথের আন্দোলন জোরদার রাখার ঘোষণা দেন তিনি।
