ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল নেতা কর্তৃক শিবির নেতাকে থাপ্পড় দেওয়ার জেরে দুপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধস্তাধস্তি, ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েনসহ বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার এবং বহিরাগতদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনা খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, যাদের আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
সংঘাতের চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে ছাত্রদলের অবস্থানকালে তাদের সাথে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। ঘটনার নানা ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকার অন্তত ১৯ জন স্থানীয় অস্ত্রধারীর পরিচয় শনাক্ত হওয়া গেছে। যাদের মধ্যে ডিএম কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হৃদয় এবং স্থানীয় পদমদি, শেখপাড়া ও আনন্দনগর এলাকার বিএনপি-যুবদলের নেতাকর্মীরা রয়েছে।
ঘটনার ভিডিও ও ছবি বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, অস্ত্রধারীদের মধ্যে ছিল পদমদি গ্রামের বিএনপিকর্মী মানওয়ার, যুবদলের হামিম, সানওয়ার ও রাজিব, পদমদির ইমন বিশ্বাস, শীতলডাঙার শিমুল, জাঙ্গালিয়া পশ্চিমপাড়ার শাহজাহান খন্দকারের ছেলে সাগর খন্দকার, আনন্দনগরের নাহিদ ও বাধন, শেখপাড়ার জিম মণ্ডল, নিবিড় মণ্ডল, সাইফুল, হিমেস, তৌহিদ, রাতুল জোর্দার ও সোহাগ, মদনডাঙা হাই স্কুলের এসএসসি ২৬ ব্যাচের রাইসুল (পদমদি) এবং ১০ম শ্রেণির মিকদাদ (চরশান্তিডাঙা)।
অস্ত্রধারীদের উপস্থিতি ও ধাওয়ার বিষয়ে স্থানীয় পদমদি এলাকার বিএনপি কর্মী মানওয়ারের দাবি, তারা ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রবেশ করেননি এবং তাদের হাতে লাঠি ছাড়া কোনো অস্ত্র ছিল না। অন্যদিকে, বহিরাগত ও স্থানীয় অস্ত্রধারীদের সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ। তিনি জানান, বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা হয়তো সেখানে উপস্থিত হতে পারে এবং পুরো সত্যতা উন্মোচনে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের তদন্ত কমিটির ওপর আস্থা রাখছেন।
সংঘর্ষের ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে শিক্ষার্থীদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে প্রক্টরিয়াল বডি ও পুলিশ প্রশাসন। এছাড়া অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে পুলিশের সার্বিক টহল বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় নেতাকর্মীদের মোটরসাইকেল শোডাউনের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে কমিটি গঠন করে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, অস্ত্রধারী বহিরাগতদের উপস্থিতি অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং লিখিত অভিযোগ সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







