আওয়ামী লীগঘেঁষা হিসেবে পরিচিত চিকিৎসক ডা. কিশালয় সাহাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) পদে পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশ দেওয়ার পর থেকেই বিতর্ক তৈরি হয় এবং স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে।
কুয়াকাটার ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা থেকে তাকে সরাসরি মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মতো সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়। উপসচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে ৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, অন্যথায় ৭ সেপ্টেম্বর থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) গণ্য হওয়ার কথা জানানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে অত্যন্ত দাপট নিয়ে চলাফেরা করতেন এই বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও কটূক্তির প্রমাণও ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগে হবিগঞ্জের মাধবপুরে কর্মরত থাকাকালে তৎকালীন বিমান প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মাহবুব আলীর আস্থাভাজন হয়ে তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন। এছাড়া চেম্বারে বসে মাদক সেবন এবং তাতে বাধা দেওয়া তৎকালীন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্বার্থান্বেষী মহলের যোগসাজশে এমন এক বিতর্কিত কর্মকর্তাকে সদর দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। বিষয়টিকে ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় অবশেষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের অনুরোধে এটি করা হলেও বিষয়টি বাতিল করার নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি ফিরে এসে প্রজ্ঞাপনটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করবেন এবং আপাতত কোনো কার্যক্রম নেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক তাঁর পুরোনো কর্মস্থলেই অবস্থান করবেন।







